Alliance for Bangladesh Worker Safety

বাংলা

প্রশিক্ষণ

অ্যালায়েন্সের প্রতিশ্রুতি
জরুরি মূহুর্তে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রতিটি শ্রমিকের এবং অন্যান্য সকলেরই ভূমিকা রয়েছে । অ্যালায়েন্স সদস্য কোম্পানিগুলোর জন্য পণ্য উৎপাদনকারি শতভাগ কারখানার শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি প্রতিশ্রুতবদ্ধ । অ্যালায়েন্সের প্রথম বছরে, সকল অ্যালায়েন্স কারখানার ১.২ মিলিয়ন শ্রমিককে প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে । আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলমান অগ্নি নিরাপত্তা পূনঃপ্রশিক্ষণের পাশাপাশি সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা এবং দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে ।

প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ
অ্যালায়েন্স প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে শ্রমিকদের অগ্নি প্রতিরক্ষা, অগ্নি প্রতিরোধ এবং জরুরি ভবনত্যাগ বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান এবং সচেতনতা অর্জনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে । এই প্রশিক্ষণে অগ্নি-নির্বাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়নি, বরং গুরুত্ব দেয়া হয়েছে জীবনের সুরক্ষার প্রতি । এছাড়াও অগ্নিকান্ড বিষয়ক উত্তম অনুশীলনসমূহ, শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্টের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা বিষয়ক অংশগ্রহনমূলক প্রশিক্ষণ, এবং শ্রমিকদের যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার শেখানো এবং অ্যালায়েন্স হেল্পলাইন সহ, শ্রমিক প্রতিনিধির কাছে আগুনের এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিভাবে রিপোর্ট করতে হয় সে বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে ।

প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন: অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে ট্রেইন-দি- ট্রেইনার (টি এন্ড টি) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে: অ্যালায়েন্স প্রশিক্ষকবৃন্দ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন কারখানা প্রতিনিধিদের (শ্রমিক এবং ম্যানেজমেন্ট উভয়কেই) যারা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরির দায়িত্ব পালন করেন এবং কারখানার সমস্ত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন এবং এগুলোকে তাদের প্রশিক্ষণ এবং ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে একীভূত করেন । কারখানার অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহনমূলক, যা তিন ঘন্টায় সম্পন্ন করা যায়, এবং সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহনমূলক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি জনকে প্রদান করা সম্ভব হয়না । প্রশিক্ষণ উপকরণ –যেমন ফ্লিপচার্ট, গাইডবুক, লিফলেট, এবং টুলকিটস- এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন স্বল্পশিক্ষিত শ্রমিকও তা বুঝতে পারে ।

প্রভাব মূল্যায়ন: অ্যালায়েন্স ২০১৩-এর প্রাথমিক শ্রমিক জরিপ অনুসারে, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস হেল্থ সাইন্স সেন্টার এট হাউসটন (ইউটিহেল্থ)২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের একটি স্বতন্ত্র প্রভাব মূল্যায়ন পরিচালনা করে । তাদের মূল্যায়নে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক শ্রমিকদের জ্ঞানের তাৎপর্যমূলক উন্নয়ন ঘটেছে, অগ্নিকান্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপন বিষয়ে তাদের উপলব্ধির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের কি দায়িত্ব রয়েছে সে ব্যাপারে তাদের বোধ এবং উপলব্ধির উন্নয়ন ঘটেছে ।

সমস্ত কারখানায় প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে, আর এখন সম্পন্ন হচ্ছে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি, এটা নিশ্চিত করতে যে কারখানায় যোগদান করা সমস্ত নতুন শ্রমিক যেন এই প্রশিক্ষণটি পেয়ে থাকে এবং যারা এর আগেও প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তাদের মনে যেন এই প্রশিক্ষণটি গেঁথে যায় । পুনঃপ্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর সাথে প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর মিল রয়েছে শুধু মাত্র ভূমিকম্পের প্রস্তুতি এবং ভূমিকম্পের সময় কি করনীয় সে বিষয়টি, এবং প্রভাব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সামান্য কিছু পরিবর্তন পুনঃপ্রশিক্ষণে সংযুক্ত করা হয়েছে ।

সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা ও দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ:
জরুরি মূহুর্তে সিকিউরিটি গার্ডরা যে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে পারে তা উপলব্ধিপূর্বক অ্যালায়েন্স সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা ও দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে এপ্রিল ২০১৫ সালে । এই বিশেষ প্রশিক্ষণ সিকিউরিটি গার্ডদের শিখিয়েছে কিভাবে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপন করে আগুন প্রতিরোধ করা যায় এবং বহিগর্মন পথ কিভাবে বাধামুক্ত রাখা যায় – এবং গার্ডদের শেখানো হয়েছে যে সম্পদের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি, অগ্নিকান্ডের সময় শ্রমিকদের সহায়তা করতে হবে যেন শ্রমিকরা আতংকগ্রস্ত না হয়ে পড়ে এবং শ্রমিকরা যেন নিরাপদে ও সুশৃঙ্খলভাবে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারে ।

অ্যালায়েন্সের সমস্ত কারখানার সিকিউরিটি গার্ডদের সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা ও দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে, এবং নতুন সংযোজিত কারখানাগুলোর সিকিউরিটি গার্ডরা নতুন কারখানাগুলো অ্যালায়েন্স কমপ্লায়েন্স তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরপরই প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে ।

প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন: সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা এবং দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে যা নির্ভর করে মূলত কারখানার আকৃতির ওপর: যে সব কারখানায় ১০ জনের বেশি সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে তাদের জন্য ট্রেইন-দি-ট্রেইনার পদ্ধতি এবং যে সমস্ত কারখানায় ১০ জনের কম সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে সে তাদের জন্য সরাসরি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি । বড় কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে, অ্যালায়েন্সের প্রশিক্ষকরা দুজন কিংবা তিনজন সিকিউরিটি গার্ডকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে যারা প্রশিক্ষণ কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করবে, এবং কারখানার সমস্ত সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে ।

অগ্রগতি অনুসরণ এবং সমর্থ তৈরিকরণ:
প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সিকিউরিটি গার্ড অগ্নি নিরাপত্তা ও দায়দায়িত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ এই উভয় ক্ষেত্রেই, অ্যালায়েন্স কারখানার অগ্রগতি অব্যাহতভাবে অনুসরণ করে থাকে এটা নিশ্চিত করতে যে কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে তাদের প্রশিক্ষণের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে কিনা । এটি তারা যেভাবে করে থাকে:

অগ্রগতি প্রতিবেদন: কারখানাগুলোকে অ্যালায়েন্সের নিকট সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, সেই সঙ্গে উপস্থিতির দলিল এবং প্রশিক্ষণের সচিত্র প্রমান দাখিল করতে হবে ।

স্পট চেক: অ্যালায়েন্স কর্মকর্তারা নিয়মিত স্পট চেক করে থাকেন এটা নিশ্চিত করতে যে কারখানায় প্রশিক্ষণ সময় মতো এবং কার্যকরিভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা । এই পরিদর্শনগুলো অ-ঘোষিত অথবা ঘোষিত উভয় প্রকার হতে পারে একটি অনির্দিষ্ট সময়সীমার ভেতর । স্পট চেকের উদ্দেশ্য হলো কারখানাগুলো যেভাবে রিপোর্ট করে সে অনুসারে প্রশিক্ষণ হয় কিনা তা যাচাই করা, এবং পর্যবেক্ষণ, শ্রমিক ও ম্যানেজমেন্টের সাক্ষাৎকার, এবং নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা । এছাড়াও কারখানাগুলোতে সুনির্দিষ্ট কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেরা অনুশীলনসমূহ কি কি হতে পারে সে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সে বিষয়ে শিক্ষা লাভ করার কাজে স্পট চেককে ব্যবহার করা হয় যেন বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করা যায় ।

সহায়তা কর্মসূচি: কারিকুলাম বাস্তবায়নে যে সমস্ত কারখানার সমস্যা রয়েছে অথবা অন্য কোনো কারণে তাদের প্রশিক্ষণ পিছিয়ে পড়েছে সে সমস্ত কারখানাগুলোতে অ্যালায়েন্স অথবা অনুমোদিত থার্ডপার্টি প্রশিক্ষক দ্বারা অন-সাইট সহায়তা প্রদান করা হবে ।

ব্র্যান্ডকে অবহিতকরণ: অ্যালায়েন্স সদস্য ব্র্যান্ডগুলোকে প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন বিষয়ে নিয়মিত অবহিত করা হয় যেন তারা ফলো-আপ করতে পারে এবং তাদের কারখানাগুলোকে সহায়তা প্রদান করতে পারে । ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদেরকেও একইরকমভাবে অ্যালায়েন্সের সমস্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে যেন তারা বাস্তবায়ন, ফলো-আপ, এবং স্পট চেকে সহায়তা করতে পারে ।

  • a
  • 5585
  • 5591
  • 5594
  • SAM 5598
  • SAM 5604
  • SAM 5605
  • SAM 5609
  • SAM 5619
  • SAM 5625
  • SAM 5629
  • SAM 5633
  • SAM 5636
  • SAM 5639

অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন

বিস্তারিত এফএকিউ –এ দেখুন অ্যালায়েন্স সম্পর্কে বারংবার করা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

দ্রুত যোগাযোগ

অনুগ্রহপূর্বক সাধারণ এবং গণমাধ্যম ঊভয় অনুসন্ধানের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।